বাংলা মুভি ধামাল এর রিভিউ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা

প্রিয় পাঠক ভাই ও বোনেরা আজকে আমি আলোচনা করব বাংলাদেশ চলচ্চিত্রের বর্তমান অন্যতম একটি মুভি ধামাল এর রিভিউ সম্পর্কে। আপনারা যারা বাংলাদেশ মুভি পছন্দ করেন এবং যারা দেখেন তারা হয়তো এখনো ধামাল মুভি সম্পর্কে কিছুই জানেন না। কিন্তু টলিউড জগতের অন্যতম একটি মুভি ধামাল, কিন্তু এই দামাল মুভিটি এখনো অনলাইনে দেখানো হয়নি। 

কেননা এটি এখনো হলে চলতেছে তাই আপনারা যারা ধামাল মুভি টি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা জানতে চান তারা আমার এই সাইট থেকে পেয়ে যাবেন। কেননা যে কোন মুভি বা যেকোন বিষয়ের উপরে আগে জেনে তার পরে দেখা ভালো তাই আমি আজকে ধামাল মুভি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব। আশা করি আপনাদের ভালো লাগবে তাহলে চলুন শুরু করা যাক টলিউডের অন্যতম নিউ মুভি ধামাল সম্পর্কে। 

বাংলা মুভি ধামাল এর রিভিউ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা

প্রথমেই আমরা মহিলা দলের সাথে জাপানের একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ দেখতে পাই, বাংলাদেশ ম্যাচ 8-0 ব্যবধানে হেরে যায়। এই নিয়ে আলোচনা শুরু হয় প্রশ্ন উঠতে থাকে মেয়েরা কেন ফুটবল খেলবে, মেয়েদের হাফ প্যান্ট পড়ে কিসের খেলা। এরপর আমরা শারমিনকে দেখতে পাই শারমিন একজন মহিলা ফুটবলার, শারমিন বাসায় আসলে শারমিনের মা বলে মেয়েদের ফুটবল খেলা কিসের। 

বাবা অসুস্থ গাগার্মেন্টসে চাকরি করলেও তো হয় নাকি, এদিকে আরেক ফুটবলার মালতি বাসায় আসলে খাবারের টেবিলে মালতির ভাবি বলে এইসব রেখে বিয়ে করে ফেলো। কিন্তু এখন বিয়ে করবে না তখন মালতির ভাবি বলে মেয়ে হয়ে ফুটবল খেলো পাড়ায় নানা কথা শুনতে হয়। এই কথা শুনে মালতি রেগে যায়, তার খেলার সব সরঞ্জাম আগুনে পুড়িয়ে ফেলেছে, তার ভাইকে বলে সে সব ছেড়ে দেবে। 

পরেরদিন মালতীও শারমিন ট্রেনিংয়ে গেলে তাদের সাথে পরিচয় হয় মেয়ে দলের নতুন কোচ সাহেবের দিনার, তাদের ১৯৭১ সালে স্বাধীন বাংলা দলের কোচ ছিলেন। এমন সময় মালতি বলে শেয়ার ফুটবল খেলবে না একসাথে শারমিন বলে ওঠে সে খেলবে না, তার আগে শফিক তাদের দুজনকে চলে যেতে বলে। 

কিন্তু দিনার আসে তাদেরকে ডাক দেন তিনি বলেন আচ্ছা তোমরা যেহেতু খেলবে না তবে যাওয়ার আগে আমার একটা গল্প শুনে যাও। আর এখানেই শুরু হয় মুভির আসল পর্ব 12 ই অক্টোবর 1971 মহারাষ্ট্র একাদশে বিরুদ্ধে স্বাধীনবাংলা দলের ফুটবল ম্যাচ। একদিকে দেশের যুদ্ধ চলছে অন্যদিকে মাছের যুদ্ধে ব্যস্ত, একজন ফুটবল দলের প্রাণভোমরা দুর্জয়। এখানে দুর্জয় এর পেছনের জন্মের সময় চলে যায়, ছোটবেলা থেকেই দুর্জয় ফুটবল দিয়ে পড়ে থাকত। 

ছেলের অসাধারণ গতি ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা দেখে সবাই বলে উঠতো দুর্জয় একদিন ফুটবলার হবে, সত্যিই দুর্জয় অসাধারণ এক ফুটবলার হয়ে ওঠে। 

দুর্জয়র সাথে পরিচয় হয় দিনারের, দিনারের দুর্জয়কে একটি ক্লাবে নিয়ে যায় ক্লাবের মালিক দুর্জয় সিলেক্ট করে। কিন্তু সিলেকশন ছিল বাঙালি জাতিকে অপমান করার একটা মাধ্যম, ক্লাবের মালিক বলে তোমাকে সিলেক্ট করলাম মাঠের ভেতর পানি নিয়ে আসবে। বাঙালিদের কাছে ফুটবল খেলতে দমদম আছে, অশিক্ষিত বাঙালি কোথাকার এই কথা শুনে বাসায় চলে আসে দুর্জয়ের প্রচুর মন খারাপ। এইভাবে অপমান করতে পারেন সিলেকশন হয়নি বাবা বলে যতদিন পাকিস্তান আছে বাঙালিরা তাদের যোগ্য মর্যাদা পাবে না। 

এদিকে আরেক দুরন্ত ছেলে মুন্না সাল 3 এপ্রিল ১৯৬৬ সাল মুন্না রক্তের প্রতিটি কোনায় যেন মিশে আছে ফুটবল। মুন্না বাইসাইকেল কিক মারতে গিয়ে পা মচকে যায় মুন্নার বাবা কে বলে মুন্নার বাবা বলে গর্তে পা পড়েছে মুন্নাকে আগামী এক সপ্তাহ থেকে বাইরে যেতে না করে। 


ঔষধ নেবার বাহানায় মুন্নার সাথে হসপিটালে দেখা করতে আসে হাসনা, হাসনা মুন্নার কলিজার টুকরা, দিয়ে যায় দেখা করতে পারে। দেখা করে জানায় তাদের বিয়ের ব্যাপারে কথা বলতে আপনার বাবা আজকে বাড়িতে যাবে, এদিকে দুর্জয় প্রেম জমে উঠেছে রিমা। রিমা তার কাকার মেয়ে, মুন্না বাবার বাসায় আসার বাবা বলে সংসার করতে হলে আগে মাথা থেকে ফুটবলের ভূত নামাতে হবে। 

মুন্নার বাবা বলে আরে ওসব বাদ দিয়ে দিয়েছে মুন্না বাবার ভয়ে শুধু জিজি করে যাচ্ছিল, মুন্নার  বাবা বলে শুনেছি ঢাকা থেকে ক্লাবের কোচ এসেছে সিলেকশন করবে। তোকে ভুলেও ঐকচ এর আশেপাশে দেখি কে শোনে কার কথা football.jar রক্তে মিশে আছে সে যাবে না নিজের এলাকার। তিনটার আগে থেকে ট্রেনিং শুরু হবে এরপর সিলেকশন একজন বলে উঠল দুপুর তিনটা থেকে ট্রেনিং শুরু। 

পরেরদিন আসতে দেরি হয় কোষ জিজ্ঞেস করে আজকে দেরী করলি কেন মুন্না বলে স্যার আজকে আমার গায়ে হলুদ, কালকে আমার জীবনের দুইটা বড় জিনিস অপেক্ষা করতাছে। আমার বিয়া দ্বিতীয় টা আমার সিলেকশন তাই চিন্তা কইরেন না আমি ঠিক সময় ছিলাম পরেরদিন মন্না বিয়ের আসরে কবুল বলে দূরে চলে যায়।  

তাছাড়া বাসায় ফিরে বাসর রাতে ঘুমাতে দরজার বাইরে কিন্তু এদিকে এলেকশন হয়না দুর্জয় মন খারাপ করে বাসায় এসে তার বাবাকে বলে তুমি ঠিকই বলেছ। আবার এই পাকিস্তানী শয়তানগুলো থাকলে কোন দিন বাঙ্গালীদের প্রাপ্ত অধিকার দিবে না, এমন সময় সেখানে দুর্জয়র বাবার সাথে বসেছিল ওয়ারী ক্লাবের মালিক। সেদিনের কথায় দুর্জয় এর খোজে এসেছিল ক্লাবের মালিক দুর্জয়কে তার ক্লাবের হয়ে খেলার অফার করে। এদিকে সকালে মনা হাসনাকে রান্নাঘরেডেকে বলে তোমাকে একটা খুশির খবর দেয়, আমার সিলেকশন হয়ে গেছে  রেখে চলে যায় সে ভেবেছিল হয়তো বলবে সে খেলা ছেড়ে দেবে। 


দুর্জয়কে  আর কে আটকে রাখে পুরো দেশ দুর্জয়ের জয় জয় কার শুধুমাত্র দুর্জয়এর  খেলা দেখতে মাঠে ঘুরে পড়তো দর্শকেরা। ৭ মার্চ 1971 দেশ ও জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ রাখলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, উত্তাল হয়ে ওঠে এরপর 25 মার্চ রাতে নিরীহ বাঙালীর উপর ঝাপিয়ে পড়ে পিশাচেরা। পঁচিশে মার্চ রাতে দুর্জয় বাসার বাইরে দরজার শব্দ হতে থাকে এদিকে গুলির আওয়াজ চারপাশে ভারী হয়ে যাচ্ছে। 

অন্যদিকে দরজায় খটখট শব্দ দুর্জয় সাহস করে দরজা খুলতেই দেখি রিমা, রিমা জানায় তার বাবাকে খুঁজে পাচ্ছেনা। দুর্জয় বের হতে চাইলে তার বাবা বলে কাল সকাল হলে ঠাণ্ডা মাথায় খুঁজো তবে এখন বাহিরে গোলাগুলি হচ্ছে বাহিরে না যাওয়াটাই মঙ্গল। পরদিন সকালে চারপাশের লাসের মেলা এত ভয়ঙ্কর মানুষ হতে পারে সত্যিই অনেক কঠিন আসছিল ওই হানাদারের উপর। 

অনেক খোঁজাখুঁজি করেও রিনির বাবাকে খুঁজে পাইনা এদিকে যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে, হঠাৎ করে বাসায় ঢুকে যায়। মুন্নার বাবাকে বলে শান্তি কমিটি গঠন করেছে কটু সেক্রেটারি সহ-সভাপতি বানাতে চায় সে যেভাবেই হোক পাকিস্তানকে বাঁচাতে হবে। মুন্নার বাবা কটুকে অপমান করে বাসা থেকে বের করে দেয়, এদিকে রিমা কলকাতা থাকার ব্যবস্থা করে। 

পরের দিন সকালে তাদের বিদায় দেয় এরপর দুর্জয় মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেওয়ার জন্য আগরতলা চলে যায়, তার বাবা-মাকে কলকাতা চলে যেতে বলে। কিন্তু মুন্নার বাবা বলে এখানে মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার জন্য তাদের প্রয়োজন আছে তাই তারা কোথায় যাচ্ছে না, যুদ্ধ করা যায়না তার বাবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে যায়। 

এবার তারা যুদ্ধে গিয়ে কয়েক মাস যুদ্ধ করার পরে তাদের একটি টিম তৈরি হয়, সেই টিমের নাম দেওয়া হয় স্বাধীন বাংলা টিম। কেননা স্বাধীনবাংলা টিম নামে কারণে দেওয়া হয়েছে ওই টিমের খেলার পরে যে টাকা আয় হয় ওই টাকা মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র কিনতে খরচ করা হয়। এরপর আমরা দেখি দেশে যুদ্ধ চলে অন্যদিকে মাঠে খেলার যুদ্ধ চলে এভাবেই চলতে থাকে বেশ কয়েক মাস। 

চলার পরে আমরা দেখতে পাই এই গল্প শুনে মেয়েরা কয়েকটি ম্যাচ জেতে এর সাথে ধামাল ছবি এখানেই শেষ, আশা করি আপনাদের আমারে রিভিউটি ভালো লেগেছে সবাই ভাল থাকবেন সুস্থ থাকবেন। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন

যোগাযোগ ফর্ম