কেজিএফ chapter-2 মুভি রিভিউ নিয়ে

প্রিয় পাঠক ভাই ও বোনেরা আজকে আমি আপনাদের সাথে আলোচনা করব কে জি এফ চ্যাপটার টু মুভি রিভিউ নিয়ে। আপনারা কে জি এফ দেখেছেন এবং কে জি এফ চ্যাপটার 2 এটা হয়তো কমবেশী সবাই দেখেছেন। কেননা এই মুভিটি অনেক একশন মুভি তাই কে জি এফ চ্যাপটার টু দেখেননি হয়তো এমন লোক খুবই কম আছেন। 

আমি আজকে এখানে আলোচনা করব কে জি এফ চ্যাপটার 2 এর সম্পর্কে, কে জি এফ চ্যাপটার টু, কে জি এফ এর কাহিনী থেকে শুরু হয়েছে। ছোটবেলায় মাকে কথা দিয়েছিল একদিন পৃথিবীর সব সোনার মালিক হবে, রকি এ জন্য জিএফ কে নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। 

এর থেকেই শুরু হয় কে জি এফ চ্যাপটার 2 এবং এই মুভির কে জি এফ চ্যাপটার 3 বের হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ আমরা এরকমই দেখেছি তাহলে চলুন এবার জেনে নেয়া যাক কেজিএফ চ্যাপটার টু সম্পর্কে আশা করি কেজিএফ চ্যাপটার টু আপনাদের সবার ভালো লাগবে। 

কেজিএফ chapter-2 মুভি রিভিউ নিয়ে


কে.জি.এফ চ্যাপটার 2 এলডোরাডো

কে জি এফ চ্যাপটার 2 এলডোরাডো কি সত্যি কোথাও আছে নাকি সেই সোনার শহর শুধুই কাল্পনিক, ১৬ শতকে কলম্বিয়া, ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা শহর অঞ্চলে অ্যামাজনের গভীর অরণ্যে অভিযান হয়েছে। এই অভিযানে গিয়েছে কিন্তু সোনায় ঢাকা শহর এল ডোরাডো হদিস মেলেনি, কিন্তু তাতে কি কল্পনায় উড়ান থামতে পারে না। 

কল্পনায় সেই এলডোরাডো দক্ষিণ ভারতের কলার গল্ড ফিল্ডস খুঁজে পেলেন পরিচালক প্রশান্ত, কে.জি.এফ। এর পর কাহিনী এগুলো নতুন পথে আর সেই পথে চলতে চলতেই বক্সঅফিসে ইতিহাস তৈরি করল। কে.জি.এফ চ্যাপটার টু অধীরের সঙ্গে রকিভাইয়ের ধুন্ধুমার অ্যাকশন শোরগোলে ফেলে দিল আসমুদ্র হিমাচলে। 

কে.জি.এফ এর কাহিনী যিনি লিপিবদ্ধ করেছিলেন সেই আনন্দ ইঙ্গালগির স্ট্রোক হওয়ার দরুন তিনি শয্যাশায়ী। কিন্তু কাহিনীকে তো এগিয়ে নিয়ে যেতেই হবে সেই দায়িত্ব নিতে হলো আনন্দের ছেলে বিজয়চন্দ্রকে। আনন্দেরই লাইব্রেরি তোলপাড় করে ফেলে খুঁজে বের করা হলো কে.জি.এফ চ্যাপটার টু পান্ডুলিপি শুরু হলো নতুন পর্ব। 


কে.জি.এফ চ্যাপটার 2 এর প্রেক্ষাপট

কে.জি.এফ এর ফ্ল্যাশব্যাক থেকেই কে.জি.এফ চ্যাপটার টু এর কাহিনী শুরু হয়েছে, ছোটবেলায় মাকে কথা দিয়েছিল। রকি একদিন পৃথিবীর সব সোনা সে মাকে এনে দেবে এই প্রতিজ্ঞা রাখতেই রকি কে.জি.এফ এর নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নিয়ে আসে। তবে তার এই সফর সহজ ছিল না, এক এক করে নিজের প্রতিপক্ষের পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিয়েছে। 

বিরাট কে মেরে ফেলার পরে কে.জি.এফ এর অধিকার সে নিজের এনেছে, শুধু তাই নয় ধীরে ধীরে সারা ভারতের অপরাধ জগতের আধিপত্য হয়ে উঠেছে। গুরু পাল্টিয়ে গ্রুপ কামাল রাজেশ সে বাধ্য করে নিজের অধীনে কাজ করার জন্য, পরিস্থিতির পক্ষে থাকলেও আকাশের এক কোণে বিরুদ্ধে মুখ খুলে মরতে হয় কামালকে। 

কে.জি.এফ নিজের প্রসাদে এনে রাখে তবে হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নেয়ার ষড়যন্ত্র চলতে থাকে, সিবিআই যেকোনো মূল্যে সাম্রাজ্যঃ ধ্বংস করার পরিকল্পনা করতে থাকে। সরকারি ক্ষমতার অধীনে নানা কটি সাজানোর খেলা চলতে থাকে, এরই মাঝে অধীরার প্রত্যাবর্তন কে.জি.এফ এর শ্রমিকদেরকে জানতো অধীরার মৃত্যু হয়েছে। 

কেজিএফ chapter-2 মুভি রিভিউ নিয়ে


কিন্তু সেই খবরটি ছিল না ফিরে এলে নিজের বিশাল বাহিনী নিয়ে রকিকে নিজের বন্দুকের নিশানায় এনে ঘায়েল করলো। কিন্তু পারলো না সন্ত্রাসের ছায়ায় সবাইকে করে রাখতেই রকি কে ছেড়ে দিল অধীরা ছেড়ে দিলো যাতে গুলিবিদ্ধ রক্তাক্ত রকিকে দেখে মন ভেঙ্গে যায়। 

তার অনুগামীদের অন্যদিকে ভারতের উত্তর-পশ্চিম উপকূলে অনুগামীদের করে সোনার চোরাচালানসহ অপরাধমূলক ব্যবসার রাস নিজের হাতে নিয়ে নেয়। সে দিন শেষ কিন্তু সাধারন গ্যাংস্টার নয় সেতো মনস্টার একেবারে হাতেনাতে সেই প্রমাণ মেলে, ছুটি কাটাতে যাছে বলে নিজের হেলিকপ্টারে চলে যায় দুবাই। 

অপরাধ জগতের বাদশা এনায়েত খলিলের মুখোমুখি হয় সেই মুহূর্তেই পাল্টে ফেলতে বাধ্য করে তার সঙ্গে ব্যবসায়িক চুক্তি করার জন্য। তার পর দেশে ফেরে রকি অধিরার সঙ্গে আবার মুখোমুখি হয়েছে এবার একে ফরটি সেভেনের বৃষ্টিতে অধীরের বাহিনী বিস্ফোরণে গুরুতর জখম হয় কিন্তু ছেড়ে দেয়।  

এদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রমিকা সেন শপথ নেওয়ার পর সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেন, নিজের বুদ্ধিতে তার ক্ষমতা বুঝিয়ে দেয়। পাশাপাশি এটাও বলে যে কোন নারী যখন সন্ত্রাসী হন তখন তার বিরুদ্ধে লড়তে নেই কপালে তিলক কেটে হাত জোড় করে তখন তার পুজো করাই উত্তম। এভাবেই কাহিনী ওদের সঙ্গে লড়াইয়ের মূল কে.জি.এফ এর আকাশপথে দিয়ে বিমান চলাচলের অনুমতি দেয় না। 

সেই কে.জি.এফ এর অস্তিত্বে ধুলিস্যাৎ করে দেওয়ার নির্দেশ দেন 2 ঘন্টা 48 মিনিট এর ছবি আর তারপর সুপার ক্লাইম্যাক্স। পরিচালক জানিয়ে দেন কাহিনী এখানেই শেষ নয় বইপত্র এরমাঝেই খোঁজ মেলে কে.জি.এফ চ্যাপ্টার 3 এর পাণ্ডুলিপি কাহিনী, ভারতের বাইরে নিজের আধিপত্য বিস্তার করেছিল রকি।

আরো পড়ুন

চঞ্চল চৌধুরীর কারাগার মুভি রিভিউ

পুস্পা মুভি রিভিউ // Puspa Movie Review

হাওয়া মুভি রিভিউ বাংলায় লেখা

লাল সিং চাড্ডা মুভি রিভিউ

কে.জি.এফ চ্যাপটার 2 এর বাজেট কত

লার্জার দ্যান লাইফ একটা ছবি কর্ণ ছবির ইতিহাসে কে.জি.এফ চ্যাপটার টু সবচেয়ে বড় বাজেটের ছবি ১০০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে, কে.জি.এফ চ্যাপটার 2 বানাতে। আর মাত্র চার দিনে পৃথিবীজুড়ে ৫৫১ কোটি ৫৩ লক্ষ টাকার ব্যবসা করেছে ছবিটি। অভিনয় সংলাপে অ্যাকশনে সিনেমাটোগ্রাফিতে মুগ্ধ করে রাখে কে.জি.এফ চ্যাপটার টু চরিত্রের কোন তুলনা নেই। 

খলনায়ক অধীরা কে যে ভাবে জীবন্ত করে তুলেছেন সঞ্জয় দত্ত তায় এক কথায় অনবদ্য সেনের চরিত্রে আলাদা করে নজর কেড়েছে। সিবিআই অফিসার রাবণের চরিত্রে দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন তবে বলতেই হয় এই ছবি রকি ভাই। রকি ভাই চরিত্রের উচ্চতা এতটাই যে অন্যান্য চরিত্র গুলো তার চরিত্রের ছায়ায় কিছুটা হলেও ঢাকা পড়ে যায়। 

পরিচালক প্রশান্ত নীল অত্যন্ত যত্ন নিয়ে ছবিটির কাহিনী লিখেছেন, বলতেই হয় সেই ডিজাইন কালার টোন একটা নিজস্বতা রেখেছে। কে.জি.এফ চ্যাপটার 2 রবি সঙ্গীত পরিচালনায় এই ছবির গান সংলাপ এবং দুর্দান্ত ভুবন সিনেমাটোগ্রাফি অসাধারণ। কেজিএফ চ্যাপটার তিনি সিনেমাটোগ্রাফির দায়িত্বে সামলেছিলেন প্রবাসের আগামী ছবি সালেও তিনিও সিনেমাটোগ্রাফি দায়িত্বে অসাধারণ সব সংলাপ বসিয়েছেন চন্দ্রমৌলি। 

কে.জি.এফ চ্যাপটার 2 এর প্রক্ষাপটে সুবিশাল এমন বড় মাপের একটি ছবি হওয়ার কারণেই চিত্রনাট্যের কোথাও দীর্ঘায়িত করা হয়েছে বলে মনে হয়না। একশন কোরিওগ্রাফিও নিখুঁত চরিত্রে নির্মাণে যে বিষয়গুলো নজর রাখা হয়েছে তার জেরেই আমজনতার বিপুল ভালোবাসা কুড়িয়েছে ছবিটিতে। 

অপরাধ জগতের মানুষ হয়েও মহিলাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, মায়ের প্রতি তার অগাধ ভালোবাসা, নিজের বাবাকেও তার অজান্তেই মায়ের সমাধিতে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব দিয়েছে। বুকের ভার হালকা করার চেষ্টা করে, ক্ষমতা থাকা সত্যেও সে রমিকা সেন এর কোন ক্ষতি করে না বরং নিজের মৃত্যুবাণ নিজেই যেন তুলে দেয় তার হাতে। চরিত্রের এই গুণগুলো অন্ধকার জগতের মানুষ সত্যের আলোয় আলোকিত করে রাখে কেজিএফ চ্যাপটার 2 শেষ হওয়ার পর হল থেকে এককথায় ভাবতে-ভাবতে বেরোতে হয় যে কে.জি.এফ chapter ৩ আর কতদিন অপেক্ষা করতে হবে। 

প্রিয় পাঠক ভাই ও বোনেরা তাহলে আমরা কে.জি.এফ chapter 2 রিভিউ থেকে অনেক কিছু শিখলাম, আসলে কে.জি.এফ chapter টু এটি অসাধারণ একটি ছবি ছিল। তাই আমরা এবার অপেক্ষা করবো কে.জি.এফ chapter 3 এর জন্য কেননা কে.জি.এফ, কে.জি.এফ চ্যাপটার টু, কে.জি.এফ চ্যাপ্টার ৩ হয়তোবা কে-জি-এফ-চ্যাপ্টার ৪ হতে পারে। 

কেননা আমরা কে.জি.এফ চেয়ে দেখেছি শুধু কে.জি.এফ chapter-2 হবে, কিন্তু কে.জি.এফ চ্যাপটার টু শেষ করার আগে দেখলাম কে.জি.এফ চ্যাপ্টার ৩ হবে। এর থেকে আমরা বুঝলাম যে কেজিএফ চ্যাপ্টার ফোর হতে পারে। প্রিয় পাঠক তাহলে কেজিএফ চ্যাপটার টু এর রিভিউ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা আজকের মতো এতোটুকুই, সবাই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন এবং কে.জি.এফ চ্যাপ্টার ৩ দেখার আমন্ত্রণ রইল। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন

যোগাযোগ ফর্ম